শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন
উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ভারতের উত্তর সিকিমের লোনাক হ্রদ পানিতে উপচে পড়ছে। তিস্তা নদীতে দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যা। প্রচণ্ড পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর সিকিমে তিস্তা নদীর ওপর দেওয়া চুংথাং ড্যাম। এতে অতিরিক্ত পানি তিস্তা নদীতে চলে আসায় পানির স্তর হঠাৎ বেড়ে গেছে। সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী বাংলাদেশ অঞ্চলেও ফুলে-ফেঁপে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। বন্যার আশঙ্কায় ঘর ছাড়ছে তিস্তা তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ জলকপাট খুলে দিয়েও পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, পানির চাপ সামাল দিতে না পেরে তিস্তার গজলডোবা ব্যারাজ থেকে বুধবার সকালে রেকর্ড পরিমাণ পানি বাংলাদেশের দিকে ছাড়ে ভারত। সকাল ৭টায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ১২০ কিউসেক পানি ছাড়ার পর সকাল ৯টার দিকে পানি ছাড়ার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৫৩৫ কিউসেক। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সকাল ১০টায় গজলডোবার সবক’টি গেট খুলে দিয়ে ঘণ্টায় ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৭ কিউসেক পানি ছাড়তে থাকে ভারত। ভারত নজিরবিহীন পানি ছাড়ায় তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের দোয়ানী ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রেড অ্যালার্ট জারি করেছে সংশ্লিষ্টরা। বুধবার বিকাল ৪টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার)। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদৌলা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার তিস্তা চরাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে। চরের রাস্তাঘাট ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গিয়ে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার আশঙ্কায় অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
বুধবার বিকাল পর্যন্ত লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। ডুবেছে রাস্তাঘাট।